WordPress .com vs WordPress Org

যখন একটি প্রফেশনাল ব্লগ তৈরী করার কথা আসে, তখন আমাদের কাছে কেবল “Blogger.com” এবং “WordPress” এর অপসন থেকে যায়।


এখন, যদি আপনি WordPress ব্যবহার করে একটি ব্লগ তৈরি করার কথা ভাবছেন, তাহলে এই ক্ষেত্রে আপনার কাছে দুটো option থেকে যাচ্ছে।


  • WordPress.com 
  • WordPress.org 

এখন এখানেই, অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে যান এবং কোন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগ সাইট তৈরি করবেন, সেটা নিয়ে সমস্যায় পড়েন।


বর্তমানে, অনেকেই জানেননা যে, WordPress দুই ধরণের রয়েছে এবং ওয়ার্ডপ্রেসের এই দুই প্রকার সম্পূর্ণ আলাদা।


তাই, আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সম্পূর্ণ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিবো।


আজকে আমরা জানবো,


WordPress.com এবং WordPress.org মাঝে কি পার্থক্য রয়েছে। 

WordPress.org এর লাভ, সুবিধে এবং অসুবিধে কি কি ?

WordPress.com এর লাভ, সুবিধে এবং অসুবিধে কি কি ?

কোনটা কম খরচে ব্যবহার করতে পারবেন ?

শেষে, ব্লগ তৈরির ক্ষেত্রে কোন ওয়ার্ডপ্রেস সব থেকে ভালো ?

ওপরে বলা এই বিষয় গুলো নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো।


বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, নতুন ব্লগাররা blog তৈরির ক্ষেত্রে ভুল “WordPress platform select” করে নেওয়া দেখা গেছে।


যার ফলে, ভবিষ্যতে এই নতুন ব্লগাররা প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।


এমনিতে, যারা জানেন যে, “WordPress.com” এবং “WordPress.org” দুটো সম্পূর্ণ আলাদা, তারাও কিন্তু এদের মাঝে থাকা পার্থক্য গুলোর বিষয়ে জানেননা।

আর, আমাকে ইমেইল এর মাধ্যমে অনেক user রা জিগেশ করেছেন যে,

“WordPress.com” না “WordPress.org” কোনটা ভালো ?


এবং, এর উত্তর হিসেবে আমি আজকে “WordPress.org” VS “WordPress.com” নিয়ে আর্টিকেলটি লিখেছি।


WordPress.com vs WordPress.org: কোনটা ভালো ?
আপনার জন্য সবটাই আগের থেকে সেট (set) করা থাকবে।

তবে, এখানে ৫ রকমের আলাদা আলাদা plans রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট চালু ও হোস্ট করতে পারবেন।

  1.  Free 
  2. Personal
  3. Premium
  4. Business 
  5. eCommerce 
মনে রাখবেন, free plan ব্যবহার করলে সেখানে প্রচুর সীমাবদ্ধতা থাকছে।

এবং, অনেক features এবং functions আমাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হবেনা।

তাছাড়া, যদি অন্যান্য paid plan নেওয়া যায়, তাহলে সেখানেও আমাদের সীমিত features ও functions দেওয়া হয়।


চলুন, wordpress.com এর বিষয়ে সম্পূর্ণটা নিচে জেনেনেই।

WordPress.com advantages 

দেখুন সোজা কথা বা এক কথা বললে, যদি আপনারা এমনিতে নিজের শখের জন্য ব্লগিং করার কথা ভাবছেন,

কেবল তাহলেই, আমি wordpress.com ব্যবহার করে সাইট তৈরি করার পরামর্শ দিবো।

Professional ভাবে ব্লগিং করার ক্ষেত্রে, wordpress.com ব্যবহার করার পরামর্শ আমি কখনোই দিবোনা।

কেন ? সেটা নিচে পড়লেই জেনেযাবেন।

এমনিতে,

এই platform ব্যবহার করার কিছু লাভ ও সুবিধে অবশই রয়েছে।

৩ জিবি ওয়েব স্পেস (web space) অবধি ফ্রীতে ব্যবহার করতে পারবেন। ৩ জিবি শেষ হয়ে গেলে, যেকোনো একটি paid plan নিতেই হবে যেখানে ওয়েবসাইটের জন্যে আরো অধিক ওয়েব স্পেস দেওয়া থাকবে।
ফ্রি প্ল্যান এর ক্ষেত্রে একটি ফ্রি SSL certificate ব্যবহার করতে পারবেন।
এক বছরের জন্য ফ্রি ডোমেইন দেওয়া হবে। (paid plan এর ক্ষেত্রে)
আপনাকে নানান ধরণের Free Themes & premium themes দেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ এবং আপডেট নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবেনা। (তবে, automatic backup কেবল কিছু প্ল্যান এর ক্ষেত্রেই রয়েছে)
তাই দেখলেন তো,

একটি ফ্রি ব্লগ তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনার কাছে তেমন কোনো সুবিধে বা লাভ থাকছেনা।

প্রচুর সীমাবদ্ধতার সাথে, কেবল একটি sub-domain ব্যবহার করে সাধারণ ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

WordPress.com এর ফ্রি প্ল্যান এর ক্ষেত্রে, আপনারা একটি “top level domain” ব্যবহার করতে পারবেননা।

তাছাড়া, প্রত্যেক ছোট ছোট features এর ক্ষেত্রে আপনার একটি ভালো ও অধিক দামি প্ল্যান নিতে হবে।

কেবল, business এবং eCommerce plan গুলোতেই আপনাদের সব রকমের features ও functions দেওয়া হয়।

WordPress.com disadvantages 
আমার হিসেবে, “wordpress.com” ব্যবহার করার অসুবিধে এবং লোকসান প্রচুর।

ফ্রি প্ল্যানে (plan) wordpress.com এর তরফ থেকে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। এবং, সেই বিজ্ঞাপন গুলোর থেকে আপনাকে ১ টাকাও দেওয়া হবেনা।
Free এবং personal plan এর ক্ষেত্রে আপনারা নিজের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারবেননা।
Google adsense বা অন্যান্য third party company ads ব্যবহার করে আয় করতে পারবেননা। কেবল, “business” এবং “eCommerce” প্ল্যান ব্যবহার করলেই পারবেন।
কেবল, WordAds নামের তাদের personal program join করে নিজের ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। তবে এটা কেবল, premium এবং business plan ব্যবহার করা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে।
Plugin install এবং আলাদা করে theme upload কেবল “business” এবং “eCommerce” plan গুলোতেই করা যাবে।
Free plan এর ক্ষেত্রে আপনারা কেবল wordpress.com এর subdomain ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, “banglatech.wordpress.com” তবে “banglatech.com” ব্যবহার করতে পারবেননা।
তারা যদি ভাবেন যে আপনার ওয়েবসাইট নিয়ে যেকোনো ভাবে নিয়মের উলঙ্ঘন হয়েছে, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ভাবে ডিলিট করে দিতে পারে।
 Business plan ছাড়া যেকোনো অন্য plan ব্যবহার করে তৈরি করা ওয়েবসাইটের নিচে “powered by WordPress.com” লেখা থাকবে।
আপনি সব ধরণের ওয়েবসাইট এখানে তৈরি করতে পারবেননা।
তাই দেখলেন তো,

WordPress.com এর free, personal এবং premium plan এর মাধ্যমে যদি আপনারা ওয়েবসাইট তৈরি করছেন, তাহলেও কতটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আমি ওপরে যেগুলো সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বলেছি, এগুলোর বাইরেও আরো অনেক ধরণের limitations রয়েছে “WordPress.com” এর।

তবে, সবটাই একসাথে বলাটা সম্ভব না।

এর উল্টো দিকে,

মাসে কেবল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ করেই, আমরা “WordPress.org” বা “WordPress CMS” ব্যবহার করে কোনো ধরণের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের সম্পূর্ণ অধিকার নিয়ে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে পারি।

WordPress.com এর দ্বারা ওয়েবসাইট বানাতে কত খরচ হবে ?
WordPress software এর তুলনায়, WordPress.com ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরির খরচ প্রচুর।

আমি ওপরে আগেই আপনাদের বলেছি,

WordPress.com এর আলাদা আলাদা কিছু plans রয়েছ, যেগুলোর জন্য টাকা দিয়ে আপনারা একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

 Free – ফ্রি তবে সাংঘাতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। 
  • Personal – Rs.160/- monthly (payment annually)
  • Premium – Rs.280/- monthly (payment annually)
  • Business – Rs.640/- monthly (payment annually)
  • eCommerce – Rs.1152/- monthly (payment annually)
ওপরে দেওয়া plan গুলোর মধ্যে যেকোনো একটি নিয়ে আপনারা wordpress.com থেকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

তবে, টাকা আপনাদের প্রত্যেক বছর একসাথেই পেমেন্ট করতে হবে।

তাছাড়া, ওপরে দেওয়া প্রত্যেকটি plan এর দাম আমি ভারতের হিসেবে দিয়েছি।

আপনারা, আপনাদের দেশে wordpress.com এর pricing গুলোর দাম দেখেনিতে পারবেন।

তাহলে বুঝলেন তো সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ?

যদি আপনি একটি ব্লগ তৈরি করার কথা ভাবছেন এবং ভবিষ্যতে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার কথা ভাবছেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে wordpress.org বা self hosted wordpress ব্যবহার করুন।

নাহলে, ভবিষ্যতে নানান সমস্যার সম্মুখীন আপনার হতে লাগতে পারে।

তাছাড়া, wordpress.com ব্যবহার করার লাভ কেবল ২ টি বা ৩ টি তবে লাভের তুলনায় লোকসান ও সীমাবদ্ধতা প্রচুর রয়েছে।

শেষে, wordpress.com এর সবচে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, “এখানে নিজের ওয়েবসাইটের ওপর আপনার সম্পূর্ণ অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ থাকছেনা”।

তাই, professional blogging এর ক্ষেত্রে, “WordPress.org হলো সেরা website builder”.

তাহলে এখন হয়তো আপনারা ভালো করেই বুঝে গেছেন যে, প্রফেশনাল ব্লগার রা ওয়ার্ডপ্রেস এর কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করাটা লাভজনক ও জরুরি।

“WordPress.com না WordPress.org“.

আমার হিসেবে, “WordPress.org”.

আপনার হিসেবে কোনটা ?

কমেন্ট করে অবশই জানাবেন। 

 

আমাদের শেষ কথা,,
WordPress.com না wordpress.org ? কোনটা ভালো এবং কেন, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনারা আজকের এই আর্টিকেলে পেয়ে গেছেন।

ওয়ার্ডপ্রেস এর এই দুটো প্লাটফর্ম এর মধ্যে প্রচুর পার্থক্য রয়েছে।

ভাবুন আপনি একটি ভাড়া ঘরে আছেন।

এই ক্ষেত্রে, আপনি কেবল ভাড়া আছেন আর তাই আপনার থাকা খড়ের ওপর আপনার সম্পূর্ণ অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ কখনোই থাকছেনা।

আপনার ঘরের মালিক যেকোনো সময় আপনাকে ঘর থেকে বের করে দিতে পারে।

ঠিক এভাবেই, “wordpress.com” এর বিষয়ে বলা যেতে পারে।

এর বিপরীতে,

যখন একটি ঘর সম্পূর্ণ ভাবে কিনে নেওয়া হয় তখন সেই ঘরের ওপর আপনার সম্পূর্ণ অধিকার থাকছে।

আপনি যেটা খুশি নিজের ঘরে করতে পারবেন, যেভাবে খুশি নিজের ঘরটিকে সাজাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ ঘরের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাথেই থাকছে।

এই ক্ষেত্রে, এই পরিস্থিতিকে আমরা “wordpress.org” সাথে তুলনা করে বুঝতে পারি।

তাই, কারো ঘরে ভাড়া থাকার থেকে নিজের ঘর কিনে নেওয়াটাই লাভজনক।

তাই না ?